October 14, 2026, 10:35 pm
যমুনা নিউজ বিডি: ইরানে পরাজয়ের ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এই মুহূর্তে বড় ধরনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে রয়েছে। এদিকে, ইরান ও হিজবুল্লাহর সাথে চলমান যুদ্ধ এবং সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চরম বেকায়দায় পড়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও।
কাতারভিত্তিক দোহা ইনস্টিটিউট ফর গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজের অধ্যাপক মোহাম্মদ এলমাসরি এক বিশ্লেষণে বলেছেন, দীর্ঘ ছয় সপ্তাহের তীব্র বোমা হামলার পরও ইরানি প্রশাসন, তাদের প্রক্সি নেটওয়ার্ক এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা অক্ষুণœ রয়েছে। এমনকি ইরানের অর্ধেকের বেশি মিসাইল লঞ্চার এখনো যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। সবচেয়ে বড় আশঙ্কার বিষয় হলো, বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বড় কৌশলগত পরাজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। আসন্ন আলোচনায় ইরান তাদের অর্থনৈতিক দাবিগুলো আদায়ে এই অবস্থানকে শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুদ্ধে বিপুল ক্ষয়ক্ষতির পর এটি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এদিকে, ইরান ও হিজবুল্লাহর সাথে চলমান যুদ্ধ এবং সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চরম বেকায়দায় পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সাম্প্রতিক জনমত জরিপ এবং মিত্র রাষ্ট্রগুলোর ক্রমবর্ধমান চাপ তার রাজনৈতিক অস্তিত্বকে এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সর্বশেষ জরিপ অনুযায়ী, ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধবিরতি এবং এই যুদ্ধে ইসরাইলের প্রকৃত অর্জন নিয়ে দেশটির ৫৮ শতাংশ নাগরিক চরম সংশয় প্রকাশ করেছেন। তবে ইরান নিয়ে নমনীয় হলেও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে সাধারণ জনগণ। জরিপে দেখা গেছে, ৭৯ শতাংশ ইসরাইলি নাগরিক লেবাননে হিজবুল্লাহর অপারেশন সম্পূর্ণ বন্ধ করতে এবং সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন।
নেতানিয়াহুর ওপর কেবল দেশের ভেতরেই নয়, আন্তর্জাতিক চাপও তীব্র হচ্ছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র শুরু থেকেই যুদ্ধবিরতির ওপর জোর দিয়ে আসছে। গত ২৪ ঘণ্টায় জার্মানি ও কানাডাসহ বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলো নেতানিয়াহুকে যুদ্ধবিরতির চুক্তি মেনে নিতে কড়া বার্তা দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সামনেই ইসরাইলের জাতীয় নির্বাচন। এই পরিস্থিতিতে একদিকে আন্তর্জাতিক মহলের চাপ রক্ষা করা, অন্যদিকে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকা কট্টরপন্থী জনমতকে সামাল দেওয়া: এই দ্বিমুখী সংকটে নেতানিয়াহুর মসনদ এখন টলমল। যদি তিনি আন্তর্জাতিক চাপে পড়ে যুদ্ধবিরতিতে অনড় থাকেন, তবে ভোটারদের বড় একটি অংশ তার ওপর থেকে সমর্থন সরিয়ে নিতে পারে। সূত্র : ওয়াল স্ট্রীট জার্নাল, আল-জাজিরা।